WBBSE অষ্টম শ্রেণীর ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় শিলা থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর নিম্নে আলোচনা করা হলো এছাড়াও শিলার প্রকারভেদ,গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নাবলী অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের সহযোগিতার জন্য নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, class 8 geography SAQ types questions-rock (3rd chapter)
অষ্টম শ্রেণী (CLASS 8) GEOGRAPHY
তৃতীয় অধ্যায়- শিলা
◾ ভূপৃষ্ঠ যে শক্ত আবরণে ঢাকা থাকে তাই হলো শিলা। শিলা গঠিত হয় প্রকৃতিতে প্রাপ্ত এক বা একাধিক খনিজের সমতপ্ত ও অসম তত্ত্ব মিশ্রণে।
◾ শিলা তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত-
(১) আগ্নেয় শিলা (২) পাললিক শিলা (৩) রূপান্তরিত শিলা
◾ আগ্নেয় শিলা(IGNEOUS ROCK)
পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে উত্তপ্ত ও তরল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণের ফলে ক্রমশ কঠিন হয়ে ভূত্বকের মধ্য ও উপরিভাগে যে কঠিন শিলা সৃষ্টি হয় তাই হল আগ্নেয়শীলা।
◾ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি-
ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধাতব পদার্থ লোহা, নিকেল, ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, প্রভৃতি পদার্থ গুলি গলিত অবস্থায় ম্যাগমারূপে থাকে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রবল চাপে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে এসে ভূপৃষ্ঠের উপরেই ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে সৃষ্টি হয় আগ্নেয় শিলার। উত্তপ্ত গলিত লাভা বা ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের প্রবল চাপে ভূপৃষ্ঠের কোন দুর্বল ফাটল বা ছিদ্র দিয়ে উঠে আসার সময় ভূপৃষ্ঠের বহির্ভাগে এসে তাপ বিকিরণের ফলে খুব দ্রুত শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলা সৃষ্টি করে তাই হল নিঃসারী আগ্নেয় শিলা। যেমন- বেসল্ট
আবার যে ম্যগমা বা লাভা ভূপৃষ্ঠের উপরে না এসে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাই হল উদবেধী আগ্নেয়শিলা। যেমন- গ্রানাইট
উদবেধী আগ্নেয়শিলা দুই রকমের-
যখন উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরের কোন দুর্বল জায়গা দিয়ে বাইরে আসার সময় সেই ছিদ্রপথেই ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে যে শিলা সৃষ্টি হয় তা হলো উপপাতলিক শিলা।
যেমন- ডোলেরাইট
আবার যখন উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা কোন দুর্বল স্থান দিয়ে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে আসার সময় ছিদ্রপথের একেবারে তলদেশে ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাই হল পাতালিক শিলা।
যেমন- গ্রানাইট
◾ পাললিক শিলা (SEDIMENTARY ROCK)
আগ্নেয় শিলা ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা সৃষ্টি ক্ষয় কার্যের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয় পেয়ে কোন নদী বা সমুদ্রের তলদেশে স্তরে স্তরে জমা হয়ে নদী বা সমুদ্রের ক্রমশ চাপের ফলে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাই হল পাললিক শিলা।
যেমন- কাদাপাথর,বেলেপাথর
◾ রূপান্তরিত শিলা (METAMORPHIC ROCK)
ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরের আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচন্ড চাপ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে শিলার নিজস্ব ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট শিলাতে রূপান্তরিত হয় ও আরো বেশি কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাই হল রূপান্তরিত শিলা।
যেমন-মার্বেল ও গ্রাফাইট
শিলা থেকে আসা উল্লেখযোগ্য প্রশ্নের তথ্য
◾ আদি শিলা বা প্রাথমিক শিলা বলতে কোন শিলাকে বোঝায়-পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হওয়ার জন্য আগ্নেয় শিলাকেই আদিশিলা বা প্রাথমিক শিলা বলে।
◾ উৎপত্তি অনুসারে আগ্নেয় শিলা হলো দুই প্রকার নিঃসারি আগ্নেয় শিলা এবং উপপাতালিক আগ্নেয় শিলা।
◾ পাললিক শিলাতেই একমাত্র জীবাশ্ম লক্ষ্য করা যায়।
◾জীবাশ্ম(FOSSIL)-পাললিক শিলা সৃষ্টির সময় কখনো কখনো কোনো সামুদ্রিক প্রাণী বা উদ্ভিদ তার মধ্যে চাপা পড়ে যায় ফলে সেই শিলার মধ্যেও সেই প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহাবশেষ ছাপ থেকে যায়। একেই বলা হয় জীবাশ্ম।👇
◾ গ্রানাইট শিলার মধ্য মাইকা নামে এক প্রকার খনিজ থাকে তা অত্যন্ত মসৃণ ও চকচকে তাই কানায় শিলায় যখন কোন আলো পড়ে তখন তা চিকচিক করে।
◾ কাঁচ ও পাথর কাটতে বা গহনা তৈরীর কাজে কোয়ার্টজ পাথর ব্যবহার করা হয়।
◾ কোন প্রাচীন শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় সংঘাতশিলা।
◾ যে সকল শিলা জৈবিক উপায়ে বা কোন রাসায়নিক উপায়ে সৃষ্টি হয় সেই সকল শীলাকে বলা হয় অসংঘাতশিলা।
◾ দুটি সংঘাতশিলার উদাহরণ হল ব্রেকসিয়া ও কংগ্লোমারেট।
◾ দুটি অসংঘাতশিলার উদাহরণ হল চুনাপাথর ও লবণ।
◾ কাদাপাথর, বেলেপাথর ও কংগ্লোমারেট এগুলি হলো পাললিক শিলার প্রকার।
◾ বেলে পাথর হলুদ, কমলা, সাদা, গোলাপি প্রভৃতি বিভিন্ন রংয়ের হতে পারে।
◾ ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হয় চুনাপাথর।
◾ বেলে পাথরের ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন নির্মাণকার্যে বেলে পাথর দিয়ে তৈরি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নির্মাণ কার্য হল- লালকেল্লা, খাজুরাহর মন্দির, সোনার কেল্লা ইত্যাদি।
◾ আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা ভীষণ তাপ, চাপ ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন ক্ষয় কার্যের ফলে অথবা কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তিত হয়ে রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয় আবার এই রূপান্তরিত শিলা ভূ আলোড়নের ফলে ভূগর্ভে পুনরায় প্রবেশ করে ম্যাগনাই পরিণত হয়। একেই বলা হয় শিলা চক্র।
◾ শিলা সম্বন্ধে অধ্যায়ন এবং শিলার বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয় বিজ্ঞানের যে শাখায় তাকে বলা হয় পেট্রোলজি।
◾ বিজ্ঞানের যে শাখায় খনিজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বলা হয় মিনরলজি।
◾ নিম্নে আমরা কিছু শিলার ব্যবহার নিয়ে জানব-
রূপান্তরিত শিলা নিস রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার কাজে রূপান্তরিত শিলা সিলেট পাথর ব্যবহার করা হয়।
চুনাপাথর আমাদের সিমেন্ট তৈরি এবং লৌহ ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়
বেলে পাথর নির্মাণ কার্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
◾ সিলিকন ও অক্সিজেন হল শিলার গঠনকারী দুটি খনিজ।
◾অক্সাইড এর পরিমাণ বেশি থাকার জন্য গ্রানাইট শিলা গঠিত মাটির রং লাল হয়।
◾ ছোটনাগপুর মালভূমিকে খনিজ সম্পদের ভান্ডার বলা হয়।
◾ কাচ তৈরিতে ফেল্ডস্পার ব্যবহার করা হয়।
◾ চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে কোন নির্মাণকার্য যেমন বহুতল বাড়ি বা রাস্তাঘাট করা উচিত নয়।
◾ মোহ স্কেলে দ্বারা খনিজের কাঠিন্য পরিমাপ করা হয় এই স্কেলে 1 থেকে 10 পর্যন্ত দশটি দাগ থাকে।
◾ রাসায়নিক ভাবে গঠিত সালফেট জাতীয় পাললিক শিলার নাম হলো জিপসাম।
◾ শিলার মধ্যে তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের প্রবেশ করার ক্ষমতা কি বলা হয় শিলার প্রবেশ্যতা।
◾ যে সংযোগস্থলে পাললিক শিলা স্তর গুলি একটি অপরটির সঙ্গে মিলিত হয় তাকে বলা হয় স্তরায়ন তল।
◾হিরে, ব্যালসাইট, কোয়ার্টজ প্রভৃতি খনিজ গুলিতে কেলাসের গঠন অত্যন্ত ভালোভাবে লক্ষণীয়।
◾ অভিক্ষারকীয় শিলার একটি উদাহরণ হল বিশ্বারলাইট।
◾ পাতালিক শিলার দানার ব্যাস 3 মিলিমিটারেরও বেশি হয়।
◾ আমাদের মহাদেশীয় ভূত্বক গ্রানাইট জাতীয় আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত।
◾ অতিরিক্ত পরিমাণে লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড পরিমাণে মাটিতে মিশে সৃষ্টি হয় ল্যাটেরাইট মৃত্তিকার।
◾ আগ্নেয় শিলার কয়েকটি বিশেষত্ব হল এই শিলা ভারী ও শক্ত, এই শিরার ঘনত্ব খুব বেশি, এই শিলার রং গাড়োও হালকা দুই হতে পারে, এই শিলাতে কেলাসের গঠন উজ্জ্বল, এই শিলাতে ফাটল দেখা যায় তাই এই শিলার প্রবেশত্যা বেশি এবং আগ্নেয় শিলার ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেশি।
◾ চুনা পাথরযুক্ত অঞ্চলে নদীপ্রবাহ বা বৃষ্টির জল মাটিকে খুব দ্রুত ক্ষয় করে ভূপৃষ্ঠে ছোট বড় নানা আকৃতির বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ গর্তের সৃষ্টি এই বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপী হল কাস্ট ভূমিরূপ।
◾ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে যেমন নদী, বৃষ্টিপাত, বায়ু প্রবাহ ইত্যাদির দ্বারা বহুদিন ধরে শিলা গঠনকারী খনিজ গুলি ক্ষয় হয়ে সুক্ষ শিলা চূর্ণে পরিণত হয়, এবং পরবর্তীকালে কোন প্রাকৃতিক শক্তির কারণেই বা জৈব পদার্থ মিশে তা মাটিতে রূপান্তরিত হয়। এই ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাচুর্ন হল রেগোলিথ।
◾ পাললিক শিলার কিছু বিশেষত্ব হল এই শিলার প্রবেশত্যা হত্যা বেশি, পাললিক শিলাতে জিবাশ্ম দেখা যায়, পাললিক শিলায় স্তরায়ন লক্ষ্য করা যায়, এই শিলাতে বিভিন্ন খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার মিলে, এই শিলাতে ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
◾ ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন খনিজ সম্পদ যেমন তামা, বক্সাইট, লোহা, ডলোমাইট ইত্যাদি খনিজ সম্পদ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় বলে ছোটনাগপুর মালভূমিকে ভারতের খনিজ ভান্ডার বলা হয়।

