বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা | দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান | মানব কল্যাণে বিজ্ঞান | Class 10 প্রবন্ধ রচনা

Student Study
0

সহজ সরল বোধগম্য ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা দশম শ্রেণীর পাঠ্য সহযোগিতার জন্য নিম্নে দেওয়া হল। এই রচনাটি থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা লেখা যেমন-মানব কল্যাণে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের ভালো ও খারাপ দিক, সমাজে বিজ্ঞানের প্রভাব ইত্যাদি👇


বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা

ভূমিকা:

বর্তমান সময়ে মানবজাতি নিজের বুদ্ধি, মেধা,ও পরিশ্রমের বলে  আজ পৃথিবীর ভাগ্যনিয়ন্ত্রতা। একসময় জীবন যাপনের ক্ষেত্রে মানুষ এবং পশুর মধ্যে কোন ভেদ ছিল না আর আজ এই মানবজাতির সমৃদ্ধের মূলে আছে বিজ্ঞান। আজ মানব জীবনের সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, সুখ স্বাচ্ছন্দের পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান। এমনকি বহু কৌতুহল বহু অজানা প্রশ্নের উত্তর এসেছে এই বিজ্ঞানেরই হাত ধরে। মানব জীবনের সাথে অতপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকা এই বিজ্ঞান কে কাজে লাগিয়ে ধনী ব্যক্তিরা আরও ধনী হচ্ছে , দুর্বার গতিতে মানুষ ছুটে চলেছে আধুনিকতার দিকে মানুষ দিনের পর দিন হয়ে যাচ্ছে যন্ত্র নির্ভর। অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে মানুষ পাচ্ছে আলোর দিশা এ কথা যেমন সত্য তেমনি অন্যদিকে  শিল্পাঞ্চলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, মানুষ যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে পরমাণু শক্তি ,যুদ্ধের অস্ত্র। তাই মানুষের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায় যে মানব জীবনের পক্ষে বিজ্ঞান আশীর্বাদ স্বরূপ নাকি অভিশাপ। 

 


মানব কল্যাণে বিজ্ঞান :

বহু সহস্র বছর ধরে মানুষ যে বিজ্ঞানের সাধনা করে এসেছে তার প্রধান লক্ষ্যই হল মানব কল্যাণ।  বিজ্ঞানের হাত ধরেই মানব জীবনে এসেছে আমূল পরিবর্তন অজানাকে জানার ইচ্ছা এবং বিভিন্ন কৌতুকের ফলেই এসেছে বিজ্ঞানের নানান আবিষ্কার। আগুন জ্বালানোর মাধ্যমে বিজ্ঞানের সূচনা হলেও বিজ্ঞান সৃষ্টি করে চলেছে একের পর এক বিস্ময় বর্তমান দিনে প্রত্যেক মানুষের ঘরেই রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন। শিক্ষার সুবিধার্থে হাতে এসেছে ছাপা বই ,অনলাইন প্রযুক্তি, ডিজিটাল শিক্ষা। গড়ে উঠেছে একের পর এক নানান বড় বড় কল কারখানা, হাতের নাগালে একাধিক সুখ স্বাচ্ছন্দের জিনিস। বিজ্ঞানের এই সাফল্যের ফলে যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত পরিবর্তন ঘটেছে মানুষ আজ সাক্ষী গাড়ি ,বাস, ট্রেন, এরোপ্লেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এনেছে এক আমল পরিবর্তন হোক বা হৃৎপিণ্ডের পরিবর্তন বিজ্ঞানের হাত ধরে মানুষ এই জাদুর সাক্ষী। বিজ্ঞানের হাত ধরেই আমরা শিখেছি নদীর জলে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যা আমরা বিভিন্ন কাজে প্রয়োগ করছি। যে সমস্ত খনিজ সম্পদ সুপ্ত ছিল তার ঘুম ভেঙেছে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায়। বিজ্ঞান আজ পৃথিবীর সীমারেখা ছাড়িয়ে পৌছে যাচ্ছে অন্য গ্রহে বহু অজানা প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে। এই বিজ্ঞানের হাত ধরে এসেছে কৃষিকাজে আমূল পরিবর্তন অল্প পরিশ্রমে আধুনিকতার ছোঁয়ায় চলছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার এবং নিত্য নতুন পদ্ধতির ব্যবহার। রাস্তার ধারে বৃহত্তর তালিকা বাড়িতে আলো, পাখা,জল সমস্ত কিছুর পেছনেই রয়েছে বিজ্ঞানের অনস্বীকার্য অবদান। 



বিজ্ঞানের অপব্যবহার :

মানুষ বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই নিজেদের শক্তিধর করার লক্ষ্যে ব্যবহার করছে বিভিন্ন আগ্নেয় অস্ত্র, পারমাণবিক শক্তির। মানুষ  বিজ্ঞানকে অপব্যবহার করে "যুদ্ধং দেহি" রূপে সুসজ্জিত করছে নিজেদের। মানুষ পারমাণবিক শক্তির উল্লাসে আজ মত্ত তারই নমুনা আমরা দেখেছি জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপণ আফগানিস্তান ইরাক ,ইসরাইল, রাশিয়া ,ইউক্রেন সবাই তাদের পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনে মত্ত। বিজ্ঞানের এই রূপ অপব্যবহার মানবজীবনে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হিরোশিমা নাগাসাকিতে এখনো বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হয় তা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তাই এই মরাণাক্ত আবিষ্কার বন্ধ করে তথা বিজ্ঞানের অপব্যবহার বন্ধ করে বিজ্ঞান কে ব্যবহার করতে হবে মানব কল্যাণে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে উঠছে বিভিন্ন কলকারখানা, ছুটে চলেছে পথে পথে অত্যাধিক যানবাহন, দিবারাত্রি চলছে অত্যাধিক যন্ত্র তার ফলে দূষিত হচ্ছে বাতাস তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ দূষিত করছে জল, মাটি বাতাস। আবার অত্যাধিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ভোগ করতে করতে মানুষ হয়ে যাচ্ছে যন্তনির্ভর। 



উপসংহার :

বিজ্ঞানের নানাবিধ দিক আলোচনার করার পর একটু ভালো করে ভেবে দেখলে বোঝা যায় বিজ্ঞান কোনোভাবেই আমাদের জীবনে অভিশাপ নয় বরং আশীর্বাদ স্বরূপ। অশুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণ মূলক কাজে ব্যবহার না করে ব্যবহার করে নাশকতায় তথা শক্তি প্রদর্শনে বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রের  ব্যবহার এবং পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করে চলেছে কিন্তু যুক্তিগতভাবে দেখলে এতে বিজ্ঞানের কোন দোষ নেই দোষ তাদের যারা বিজ্ঞানের অপব্যবহার দিনের পর দিন করে চলেছে। তাই মানুষ বিজ্ঞানকে যতই দোষারোপ বা কলংকলিপ্ত করুক না কেন সেই দোষ বিজ্ঞানের নয় ,দোষ মানুষের। বিজ্ঞানের হাত ধরে মানুষের শিল্প ক্ষেত্রে, কৃষিতে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে, এবং মানুষের জীবনযাত্রায় যে আমল পরিবর্তন এসেছে তা মানুষের কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ। পরিশেষে বলা যায় বিজ্ঞানকে মানুষ অগ্রগতির কাজে তথা মানব কল্যাণে কাজে লাগালে বিজ্ঞান আশীর্বাদ স্বরূপ আর যদি মানুষ বিজ্ঞানকে অপব্যাবহার করে নাশকতার ,যুদ্ধের এবং পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করে তখন বিজ্ঞান মানব জীবনে হয়ে উঠবে অভিশাপ স্বরূপ।


উপরিউক্ত রচনাটি থেকে যেসব বিষয়ে রচনা লেখা সম্ভব সেগুলি হল - 

বিজ্ঞানের আশীর্বাদ ও অভিশাপ/বিজ্ঞানের ভালো ও খারাপ দিক/বিজ্ঞানের কল্যাণ ও অকল্যাণমূলক দিক/মানব কল্যাণে বিজ্ঞান/বিজ্ঞান ও তার আবিষ্কার/বিজ্ঞান ও কুসংস্কার/দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ইত্যাদি রচনাগুলি সুপরিক্ত রচনাটি থেকে স্বল্প পরিসরে লেখা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)